একটা অন্ধ রাত
জানালার ছোট্ট ফুটোয় আকাশটাকে জেলে বন্দী কয়েদী মনে হয়। ঘোলাটে আকাশে তাকিয়ে থেকে জীবন প্রাচীরের ওপারে উঁকি দেওয়ার ইচ্ছা জাগে। থমকে দাঁড়ানো সময়ে ইচ্ছে গুলোও এত এলোমেলো কেনো হয়? সদুত্তর পাই না। সবকিছু আরও ঘোলাটে করে দিয়েই যেনো জানালার ফাঁক দিয়ে ঠান্ডা বাতাস এসে মোমবাতিটা নিভিয়ে দেয়। নিরেট অন্ধকারে বাতাসের ঝাপটায় ঝড়ের আভাস পাই। জীবন পথের ক্লান্তিকর যাত্রায় এই ঝড় বহুবার দেখেছি। তবু প্রতিবারই নতুন মনে হয়। আচ্ছা সে কি আজো ঝড় এলে চোখ বন্ধ করে বড় একটা নিঃশ্বাস নিয়ে স্মিত হেসে ওঠে? আজো কি জানালার শিক গলে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির ফোঁটা স্পর্শ করে? সেই ঠান্ডা স্পর্শে আমাকে অনুভব করার চেষ্টা করে? হয়তো! রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের বাতি নিভু নিভু করে। পুরনো জাম গাছটার ডালের বুড়ো পেঁচাটা থেকে থেকে ডাক ছাড়ে, যেন বহু পুরনো কোনো স্মৃতি দীর্ঘশ্বাস হয়ে বেরিয়ে আসে।
বাস্তবতার বেড়া ডিঙ্গিয়ে হাঁটা দেই। অন্ধকারে আচ্ছন্ন পথের শেষ মাথায় একটা ছায়ামূর্তি দাড়িয়ে আছে বলে মনে হয়! পথটা পাড়ি দিতে পারলেই তাকে ছোঁয়া যাবে। কিন্তু এ পথ কী কখনো শেষ হবে? নাকি নিভে যাওয়া মোমবাতির মতোই ঠায় দাঁড়িয়ে পরব এক সময়? এরই মধ্যে ঝড় ওঠে আর তা সংক্রমিত হয় মনের গহীনে। ভাবনার মাঝেই হঠাৎ হাঁটার গতি কমে আসে। চারমিনারের প্রচন্ড তৃষ্ণা অনুভব করি। এলোমেলো জিপসি রাত শেষের দিকে। এইতো ভোর হলো বলে!
(এপ্রিলের ঘুনে খাওয়া এক রাত)

Comments
Post a Comment