কাজরী
দুপুরের রোদ টা বাড়তেই কাজরীর মুখ রক্তিম হইয়া ওঠে একটা হাত বাড়াইয়া আমার হাতটা আকড়ায়া ধরে। চোখগুলা চোখে রাইখা কয়, কিছু বলবা আমারে? আমি তার চোখ জোড়ায় গোটা একটা সমুদ্দুর দেখতে পাই। মনে হয় অক্ষুনি কি এক ঢেউ আইসা, আমারে তার কষ্টের অতলে তলায় দিবে। আমি নির্বাক কাঠের ঘোড়ার মতন দাঁড়ায় তারে দেইখা যাই। কিন্তু একটা বার কইতে পারি না কাজরী, আইজ তুই যাইস না বাড়ি। এই গা জ্বইলা যাওয়া দিন শেষ হইলেই নক্ষত্রের নিচে রাইতটা দুইজন পার করমু। আর কিছু না পারি আমার শক্ত বুকে, তোর মাথা রাখার জায়গা দিমু। কিন্তু তারে কিছুই কইতে পারি না, জনম বোবার মত দাঁড়ায় তারে দেখি খালি। কাজরীর মুখ জুইড়া কি এক হতাশা আমাগো সময়ের ছোট্ট দড়িটা কাইট্টা, তার বাস আইসা খাড়ায়। সে কুঞ্জের ন্যায় চোখজোড়া শেষবারের মতন আমার চোখে রাখে এরপর দৌড়ায় বাসে উইঠা যায়। জানালায় কাজরীর অসহায় মুখটা আস্তে আস্তে দিগন্তে মিলায়। আমি ঠায় দাঁড়ায় প্রলাপ বকি এমনেই প্রতিদিন বাসটা আমারে ফালায় যায়, এমনেই প্রতিদিন মেয়েটা আমারে রাইখা পালায়। কিসের নেশায়, কার টানে পালায়? রোদটা আবার বাড়তে থাকে, দিন...

.jpg)
